মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১১

♥ ♥ ♥ প্রেম তত্ত্ব ♥ ♥ ♥


গাছ বাদে ফুলের ঘ্রাণ কে কবে পেলো শুনি?
সাধক সে জন,পীর-দরবেশ, নয়তো ঋষি-মুণি।
দেহ বাদে প্রেমের কথা বলে যে জন
জেনে রেখ, মিথ্যা বলে সে, মিথ্যুক সে জন।
না ঘুমিয়ে স্বপ্ন যারা দেখে
তা স্বপ্ন নয় হে, সে যে দিবাস্বপ্ন
ভ্রান্তি তাহার চোখে-মুখে।
অংকের ভাষায়, মন হল দেহের এক জটিল ফাংশন।
জানা নেই আমার, এর থেকে কোন সত্য ভাষন।

শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০১১

আমার বন্ধু সোহেল

                                 “তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়? 
                      দুঃখের দহনে করুণ রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয় 
                                  তিলে তিলে তার ক্ষয়।।
                      আমি তো দেখেছি কত যে স্বপ্ন মুকুলেই ঝরে যায়।’’

          হ্যাঁ দেখেছি।আমি মুকুল ঝরে যেতে দেখেছি। তবে কেবল মুকুলই নয়; আমি ফুটন্ত কলিও ঝরে যেতে দেখেছি। সোহেল কেবল মুকুল নয় সে সম্পূর্ণ ফুল হয়ে উঠতে যাওয়া বিকাশমান একটি কলি। সামান্য সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আর একটু সুযোগ পেলেই সে ফুল হয়ে উঠতে পারে।

          আমি মোঃ সোহেল রানা’র কথা বলছি। আমার বন্ধু সোহেলের কথা বলছি।সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্র। আর ছয়টি মাস পার হলেই একজন গ্রাজুয়েট।কিন্তু হায়,ভাগ্যের কী নিদারুণ পরিহাস! এই পূর্ণিমা তিথির পূর্ণ চাঁদ উঠার আগেই তাকে গ্রাস করতে ছুটে এসেছে এক দুষ্টগ্রহ । সোহেলের কিডনীতে বাসা বেঁধেছে এক দূরারোগ্য ব্যধি।রোগটির নাম-Chronic Glomerulonephritis with Hypertension with End Stage Renal Failure on Heamo-dialysis.তার দুটি কিডনীই এখন অচল প্রায়।ডায়ালাইসিস করে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। ছোট হয়ে গেছে তার কিডনী দুটি,ছোট হয়ে এসেছে তার পৃথিবী, কিন্তু বেঁচে থাকার আশাটা বড় বেশি তার।

           টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুর উপজেলার রামপুর গ্রামের এক দরিদ্র দিনমজুর মোঃ আব্দুস সামাদের বড় ছেলে সোহেল।বাবা-মার ঘামে ভেজা অর্থে আর তার নিজের প্রচেষ্টাই সে আজ এখানে। মিরপুরে এক মামার বাসায় থেকে টিউশন করে,কোচিং সেন্টারে ক্লাশ নিয়ে নিজের এবং তার আদরের একমাত্র ছোট বোনটির পড়াশুনার খরচ চালাতো সে। অনার্স শেষ হলেই একটা চাকরি করবে,বোনটির দায়িত্ব নেবে আর বাবা-মা কে ছুটি দেবে; এই তার আশা।তার জীবন তার মত করে গুছিয়ে নেবে সে।কিন্তু তার সে আশা আজ থমকে দাঁড়িয়ে গেছে।
তারাশঙ্কর সেই কবি’র মত করেই সোহেল বেডে শুয়ে আজ আমাকে প্রশ্ন করেছিল,
                            “হায়! জীবন এত ছোট কেনে!
                                    এ ভুবনে
                   জীবনে যা মিটল নাকো, মিটবে কি তা মরণে?’’
         আমি তার এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর করতে পারি নি। আমতা আমতা করে যা বলে ছিলাম তা কোন উত্তর নয়;শুধু সান্ত্বনার বাণী। আমি বলেছিলাম, ‘জীবন কোনো দিন শূন্যে গিয়ে থামবে না।তবে দূঃখ? হ্যাঁ, দুঃখ আছে। থাকবে।আর তা আছে বলেই মানুষ আশা দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে বিশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে বোঝাপাড়া করে বেঁচে থাকে। তোরও নিশ্চয় অসুখ সেরে যাবে।এ আর এমন কী! কিডিনী ট্রান্সপ্লান্ট করলেই তুই সুস্থ হয়ে যাবি।আগের মত ক্যাম্পাসে আসতে পারবি, আড্ডা দিবি ঠিক আগের মতই। একদম চিন্তা করবি না,আমরা আছি না তোর সাথে? জীবন তো এই রকমই-নানা বর্ণে বেদনায় রঞ্জিত এক উপন্যাসের মত। ’

          জানি না এটি সত্য না কোন মিথ্য প্রলোভন। তাকে নিয়ে সৃষ্টিকর্তার খেয়ালও আমাদের অজানা।শুধু জানি, আমার বন্ধুটি এ পৃথিবীর রং-রূপ-রস ঠিক মত না বুঝেই চলে যেতে বসেছে।এই জীবনটা ভালো কিংবা মন্দ কিংবা যা-হোক-একটা-কিছু সে কথাটাও বোঝার সময় পাচ্ছে না সে।জীবন তাকে সে সুযোগ দিচ্ছে না।কখন সে জীবনের মাঝে মগ্ন হয়ে জীবন কে উপভোগ করতে পারবে না আর।

       জীবনের ধারা চলতে চলতে তার যে সব চিহ্ন বিছিয়ে যায় সেগুলোর স্মৃতিচিহ্ন তার আশেপাশের মানুষদের কে বড় কষ্ট দেয়।আমরাও সেরকম কষ্টে ভুগছি।তার সাথে কাটানো দিনগুলোর কথা আজ বারবার মনে পড়ছে,চোখের সামনে ভেসে উঠছে একেবারে জীবন্ত হয়ে।আমরা প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে শ্যাডোর নিচে আড্ডা দিতাম।সোহেল বেশ রসিক ছিল।কথা কম বলতো;কিন্তু কথায় অনেক উইট থাকতো।তার বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুকে আমরা হাসতে হাসতে ফেটে পড়তাম।

           আমরা ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র।অনেক ট্রাজেডি পড়েছি এবং পড়ছি আমরা ।কিন্তু সোহেলের মত মর্মান্তিক জীবন্ত ট্রাজিক হিরো জীবনে দেখি নি।প্রকৃতির হাতে নির্মম-নির্দয় ট্রাজিক পরিণতি।

           সেই সোহেল আজ অসুস্থ।মারাত্বক ভাবে অসুস্থ।কিন্তু বেঁচে থাকার আকুলতা তার প্রবল।বাঁচার একমাত্র উপায় কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট করানো।এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থ।সে অর্থ তার কিংবা তার পরিবারের নাই।তাই বলে কি সোহেল অর্থাভাবে,চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে? তা কখনো হতে দেব না আমরা।জীবন মানুষের একটাই; সেই জীবন কে এভাবে খরচ হতে দেব না আমরা।
                           '' মানুষ মানুষের জন্যে জীবন জীবনেরজন্যে
                       একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?''

প্রিয় আজম খান

(উৎসর্গঃ বাংলার পপগুরু আজম খান কে)

কি আর লিখব কবিতায়?
যখন সমগ্র জাতি শোকার্ত
তোমাকে হারানোর বেদনায়।
শহীদ মিনারে  হাজারো মানুষের ভিড়ে
যে সোকগাথা রচিত হয়েছে
তা কি আমি লিখতে পারবো
মাত্র কয়েক লাইন কবিতায়?

আমি জসীমউদ্দীন লেনে
কতদিন পিছু নিয়েছি গোপনে।
তুমি জানতেও পারোনি তা।
তোমার লম্বা লম্বা পা ফেলে
যখন হাটতে উদাস ভঙ্গিতে
এক হাতে ঝোলা ব্যাগ, অন্য হাত পকেটে
সবজি বাজার ঘুরে মাছের বাজারে যেতে না যেতেই
একদল কৌতূহলী ভক্ত যেত জুটে
কলোনির সেই কমবুঝ ছেলেগুলো
আজও হয়তো চেয়ে থাকে
এই বুঝি তুমি চলে আসবে
ক্ষণিক পাশে বসবে,
কিংবা খেলবে তাদের সাথে।
...
...
রেললাইনের বস্তির সেই ছেলেটি
বড় হয়ে যখন তোমায় খুজবে
কি বলবো তাকে? তা তো  বলনি।
প্রতিদিন কত আলাল-দুলাল
হারায় চাঁনখারপুলে
তাদের খোঁজে কে বল আর গান গাবে
অমন হৃদয় খুলে?
বিড়ি আর গাঁজার ধোয়ার মাঝে
তুমি প্রথম যেদিন গেয়েছিলে গান
সেদিনই বুঝেছিল সবাই
তুমি হবে সাধারণ জনতার প্রাণ।
সালেকা,মালেকা,  আর পাঁপড়িরা
তোমার কারণে ভাষা পেল নীচজরা।

যতদিন শোনা যাবে বাংলা ভাষায় গান
ততদিন থাকবে তুমি প্রিয় আজম খান।

আমি নারী

সুন্দরীরা সব অবাক
আমার কি আছে এমন?
মডেল কন্যাদের মত না হয়েও
কিভাবে আমি অনেক পুরুষের স্বপন?
জবাবে আমি যখন কিছু বলি
তারা ভাবে আমি মিথ্যার ঝুলি।
আমি বলি-
পুরুষের আকর্ষন আমার সুডৌল বাহু।
আর আমার কোমোরেরে দুলনি।
নারী সুলভ আড়ষ্ঠ পদক্ষেপ
কিংবা আমার বাঁকা চাহনি।
আমি একজন নারী
পৃথিবীর মহাঘটিয়সী
বহু ঘটনার জন্মদান কারী।

আমি হাঁটাহাঁটি করি ঘরে
ঠিক তোমাদের মত করে।
কিন্তু কোন পুরুষের সম্মুখে
ঠাঁয় দাঁড়ায়ে যায়।
নত মস্তকে সে কাচুমাচু মুখে
তোষামদ করে আমায়।
আশেপাশে ঘুর ঘুর করে
পুরুষ মৌমাছি্রা যেমন ঘোরে
রানীর সাথে সঙ্গম লিপ্সায়।
আমি বলি-
এত কিছুর কারণ
আমার বাঁকা ভ্রুর নাচন।
কিংবা আমার রহস্যভরা হাসি।
অথবা চপল পা দুখানির কারসাজি।
আমি একজন নারী;
পৃথিবীর মহাঘটিয়সী
বহু ঘটনার জন্মদান কারী।

পুরুষের চোখেও আমি বিস্ময়।
দূর থেকে চেয়ে দেখে,
প্রচুর চেষ্টা করে,
তবুও স্পর্শের স্পর্ধা নাহি কুলায়।
নারী হৃদয়ের চির রহস্য
যখন দেখাতে চাই।
তারা বলে,
হে নারী, কুল নাহি পায়।
আমি বলি-
এত কিছুর কারণ
আমার পিঠের মসৃন আবরণ।
অথবা আমার যত্ন করা মুখখানি।
কিংবা বুকের উত্থিত মাংসপিন্ডসহ
আমার যৌবনপুষ্ট দেহখানি।
আমি একজন নারী;
পৃথিবীর মহাঘটিয়সী
বহু ঘটনার জন্মদান কারী।

এখন তুমি বুঝবে
কেন আমি এত দুর্বিনীত।
অনুরোধ কিংবা তোষামোদ ছাড়ায়
এক ভ্রুর নাচনে, কাজ যখন হয় শত।
তোমার পাশ দিয়ে আমি যখন হাঁটি
গর্বে তোমার বুকটা যায় ফাটি।
আমি বলি-
এত কিছুর কারণ,
আমার চঞ্চল হাটন।
অথবা আমার চুলের মদির ঘ্রাণ।
কিংবা আমার নরম হাতের ছোয়ায়
আছে যখন বহু সঞ্জিবনী প্রাণ।
কারণ আমি একজন নারী।
পৃথিবীর মহাঘটিয়সী
বহু ঘটনার জন্মদান কারী।
[Maya Angel-এর একটি জনপ্রিয় কবিতা থেকে থিম এবং ফর্ম ধার নিয়েছি।]

লুকানো ব্যথা

তোমরা আমায় হাসতে দেখো
গাইতে দেখো গান,
কেউ কখনো  দেখেছো কি
এ বুকে ব্যথার পরিমান?

সবুজ ঘেরা পাহাড় দেখো
কখনো পেতেছো কি তাতে কান?
কঠিন শিলার কঠিন হৃদয়
তারও আছে গোপন অভিমান।

সেই পাহাড়ের মর্মব্যথা
লুকানো সব গোপন কথা,
অশ্রু হয়ে ঝরে তারা।
মনোহরা ঝর্ণাধারা!

হে মনমিতা

হে মনমিতা, চেয়ে দেখ আমার চোখের তারায়
তোমার চোখে আমার ছবি,
আর আমার চোখে খুজে পাবে তোমায়।
এই আমি কথা দিচ্ছি তোমায়।
এক বার যদি কিস দাও ঐ পানির গ্লাসে
আর কোনদিনও মুখ দেব না বিয়ার কিংবা ভোদকায়।
যে তৃষা জাগিয়েছো তুমি আমার এ প্রাণে,
হাউজে কাওসারের পানিতে মিটবে না তা
কিংবা মিটবে না তা  গঙ্গার পবিত্র জল পানে।
সেদিনের দেওয়া সেই গোলাপ ফুলের তোড়া
কোন ভণিতা কিংবা লৌকিকতা নয়,
সবটুকু আমার বিশুদ্ধ প্রেমে মোড়া।
দিয়েছিনু এ আশায় নয় যে কেবল তুমি নেবে ঘ্রাণ
বরং নিঃশ্বাসের সাথে ছুড়ে দেবে তুমি মদনের বান।
তোমার নিঃশ্বাসের সৌরভে হল সে ফুল সৌরভময়
তারই মঝে আমি, হে মনমিতা,খুজে পেলাম তোমায়।                        

বৃষ্টি ভেজা প্রেম

প্রকৃতির এই নাটকের মঞ্চায়ন।
শুধু আমাদের দুজনের জন্যই
আজকের এই পুরো আয়োজন।

ভার্সিটির বটতলায় বসে আছি
বেশ কাছাকাছি
হ্যা, সাথে সেও আছে।
দুজনে পাশাপাশি
করে ঘেষাঘেষি।

হঠাৎ শুরু হল বৃষ্টি।
গাছের নীচে, পাতার ফাকে
ফোটা ফোটা বৃষ্টি
ভেজা শরীর,শিরশিরে বায়ু
যতসব অকারণ অনাসৃষ্টি।

শুরু হল আনচান
ব্যকুল হৃদয় শুধু দেয় টান।
হাতে হাত রেখে
নেমে পড়লাম রাস্তায়।
কলা ভবনে মোড় নিয়ে,
শ্যাডোর ভিতর দিয়ে
থামলাম এসে
মল চত্বরের শেষটায়।

আমাদের বরণ করে নিতে
পথ জুড়ে ছড়ানো ছিলো কৃষ্ণচূড়ার লালদল
মাঝে মাঝে উপর থেকে
ছিটিয়ে দিচ্ছিল গাছেরা ফুল সজল।

মনে হল কৃষ্ণ আমি
রাধা আমার পাশে
সেই আদিম আকর্ষণে
তনুমন  তখন হাসে।

ভেজা কাপড়
ভেজা শরীর
লেপ্টে গেছে সব বসন
এত জল মাঝে
জাগিছে তৃষা অতি গোপন।
স্পষ্টতর এখন তার শরীরের বাক
আমি কেবল অপলক নির্বাক
আটসাট পোশাকের শাষণ
ভেদিতে চায় তারা
শুনতে চায় না কোন  বারণ।

সদ্যস্নাত তার  মেকাপহীন মুখখানি,
তাজা ফুলে ভরা যেন নতুন ফুলদানি।

কত ভাষাহীন আলাপ হল
তৃষাতুর এই চার চোখে
পলকে পলকে মিলন হল
ভাসিলাম অসান্ত* সেই সুখে।
[অসান্ত--অসীম]